খুলনা বললেই সুন্দর বনের কথা মনে আসে। ধরুন সেই বনের বাঘ বলছে, পুরো সুন্দর বনে বাঘেরাইরাজা সেই হবে, কিন্তু মাঝের যে ঘন বন রয়েছে সেখানে সে মৌমাছিকে ক্ষমতায়িত হতে দেখতেচায়। আবার বনে বাঘের প্রতিপক্ষ যে সিংঘ তারও ইচ্ছা সে ঐ এলাকায় মৌমাছিকেই চায় নেতাহিসাবে। তাদের এই উদারাতার প্রথমে অবাক হলেও পুরোটাই নির্বাচনী কৌওশল তাও বুঝলো বনেরবাকি সব হাতি, ঘোড়া, বারন, টিয়াপাখিসহ বাকি পশুকুল। কারন ঘন বনের ঐ এলাকায় যে মৌমাছিরইদখল পুরোটা জুড়ে। এটা একটা গল্প হলেও, এবারের ১৩ তম সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসন ৯৯ এর প্রকৃতির সাথে বেশ মেলে ।
খুলনা বিভাগের সংসদীয় আসন ৯৯ মানে, খুলনা ১ এর নির্বাচনী এলাকা বটিয়াঘাটা আর দাকোপ। এই এলাকায় বহূ বছর ধরে জয়ীহিন্দূ প্রার্থীরা। সকল দলই তাই এবারো হিন্দু প্রার্থী নির্বাচন করেছেন । বাদ যায়নিধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়েতী ইসলামী বাংলাদেশও। এই একটি আসনে ছয়টি দল ছাড়াও দুইজন স্বতন্ত্র হিন্দু প্রার্থী আছেন। শেয়ার্ড টুডের বিডি ইলেকশন ম্যাপ বলছে, বিএনপরএই আসনে সেন্টিমেন্ট এনালাইসিসে এগিয়ে আছে।তবে আসনটি সুইং । ঘুরতে পারে লিডের হিসাব তাই যে কোন মুহুর্তে। খুলনার এই আসনের সাথেবাকি ৩৫ টি আসনেই এবার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার। খুলনার ৬ আসনেই বেড়েছে১ লাখ ১ হাজার ভোটার। নতুন এই ভোটারের পুরোটাই তরুন। আর ধরেই নেয়া যায় তারা স্যোসালমিডিয়া ব্যবহার করেন। এইসব ভোটারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মন্তব্যও যুক্ত হয়েছেশেয়ার্ড টুডের সেন্টিমেন্ট ইনালাইসিসে।
খুলনার অন্য আসনগুলো যদি আমরা দেখি, সেখানেও আছে নানা চমক। বিএনপি এই বিভাগে লিড সেন্টিমেন্টে রয়েছে, ৩৬ টিরমধ্যে ২৩ টি আসনে। যদিও দলটি এই ২৩ আসনেই স্বস্তিতে নেই । কারন বিএনপির মূল প্রাথীরসাথে বিদ্রোহী প্রাথীতো আছেই। কোথাও কোথাও সেই সংখ্যা দুই বা তিনও। নড়াইল ২ বাগের হাট১ বাগেরহাট ২, ঝিনাইদাহ ৪, সাতক্ষিরা ৩ এই পাচ আসনে লিড পজিশনে রয়েছে বিএনপির দ্বিতীয়বা তৃতীয় নাম্বার প্রার্থী। এছাড়া সুইং মানে লিড হারানো সম্ভাবনাময় সিট আছে ৬টি। সাতক্ষিরা৪, চুয়াডাঙ্গা ১,২ ঝিনাইদহ ৪, বাগেরহাট ১,৩ এবং নড়াইল ২। তাই এই সব বাদ দিয়ে বিএনপিরহাতে পরিস্কার লিড থাকছে ১২ টি আসন। এর মধ্যে বিডি ইলেকশন ম্যাপের হিসাবে স্যোসাল মিডিয়ারসেন্টিমেন্ট ইতিবাচক হলেও , কার্যত একটিভ বেশি জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশ।
শেয়ার্ড টুডের হিসাবে খুলনা বিভাগে জামায়েত এর লিড ৭ আসন। যেখানে স্যাোসালমিডিয়াতে সম্পৃক্ততা বিএনপির তুলনায় বেশি। এই বিভাগে জামাতের হাতে থাকা ৭টি লিডের মধ্যেরয়েছে, খুলনা ২,৪ মেহেরপুর ১, কুষ্টিয়া ৩ , যশোহর ২,৬ এবং বাগেরহাট ৪ আসন। এর মধ্যেবাগেরহাট ৪ এবং মেহেরপুর ১ আসন আবার সুইং। মানে সেন্টিমেন্টের পাল্লা যে কোন সময় পাল্টাতেপারে। তবে বিএনপির মতো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় জামাতের প্রার্থীরা স্যোসাল মিডিয়াতেপাচ্ছের একক মনোযোগ। তাইতো বরাবরের মতো জামাতেরসোসাল মিডিয়া এনগেজমেন্ট এই বিভাগেও বেশি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি জামায়াতের সাথেজোটে থাকতো তবে, আরো ৩টি আসন লিডে যোগ করতে পারতো দলটি। মাগুরা ৩,২ এবং কুষ্টিয়া ৪।কারন এই তিন আসনে লিডে রয়েছে দলটি। এছাড়াও যশোহর ৩ আসনে সেন্টিমেন্ট এনালাইসিসে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দলটি।
ঝিনাইদাহ ৪ আসনে লিড পজিশনে রয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। যার স্যোসালসেন্টিমেন্ট এনগেজমেন্টও বেশ শক্ত।
সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে খুলনা বিভাগে বিএনপির স্যাোসাল সেন্টিমেন্টএনালাইসিসে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে নতুন এবং তরুন ভোটাররা বেশ সক্রিয় নির্বাচনেরআগেই নির্বাচনী মনোভাব জানাতে।